
বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে অর্থের অভাবে যাতে দেশের কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থমকে না যায়, সেজন্য সরকার একটি শক্তিশালী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে। রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে উদ্যোগ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখা চলবে না, বরং এর বাস্তব সুফল দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে দক্ষতা, সুশাসন ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এই ফান্ড অব ফান্ডস পরিচালিত হবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতিপূর্বেই দেশের ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে কেবল সরকারি অর্থায়নের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বেসরকারি খাতকেও স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী। এই বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে দেশে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধনের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের উদীয়মান স্টার্টআপগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশেরও সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুমুখী করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, স্টার্টআপগুলোর জন্য সঠিক পরামর্শ, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা উল্লেখ করেন যে সরকার এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ৪০০ কোটি টাকা আকারের এই তহবিল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামো গড়ে তুলবে।