
ঝাড়খণ্ডের ওপর অবস্থানরত আগের নিম্নচাপটি কিছুটা দুর্বল হলেও স্বস্তিতে নেই দক্ষিণবঙ্গ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ওপর নতুন করে আরও একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে চলেছে। এই নতুন সিস্টেমের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরের জেলাগুলোতেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত ঘূর্ণাবর্তটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। বর্ষাকালীন অক্ষরেখাটি পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ হয়ে ঝাড়খণ্ড ও বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৮ অগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া বেশ অস্থির থাকবে। শনিবার থেকেই কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে রবিবার এবং সোমবার। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুরে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। সবথেকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে সোমবার, যখন পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের জন্য বিশেষ লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই জেলায় প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে, যা ২০ সেন্টিমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের আশা থাকলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দুই বর্ধমান জেলায়। এরপর বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি চলতে পারে। উত্তরের জেলাগুলোতেও দুর্যোগ কমবে না। সোমবার থেকে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং অঞ্চলেও সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের মঙ্গলবার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।