
আসন্ন সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ঠিক কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে, তা নিয়ে এখনো তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও চরম অনিশ্চয়তা। বাফুফের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি পড়েছেন এক অদ্ভুত দোটানায়; কোন প্রতিপক্ষ বা ফরম্যাট ধরে তিনি দলের প্রস্তুতি সাজাবেন, সেটিই বুঝে উঠতে পারছেন না। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আশিয়ান কাপ, ঘরের মাঠে চার জাতি টুর্নামেন্ট কিংবা কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্টে খেলার কথা শোনা গেলেও বাফুফে থেকে এখনো কিছু শতভাগ নিশ্চিত করা হয়নি। সম্প্রতি ভারত আশিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশ দলের সেখানে খেলার একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর ঠিক তারপর থেকেই মূলত এই জটিলতার শুরু। গত শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে কোচ টমাস ডুলি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সবকিছু কাগজে-কলমে চূড়ান্ত না হওয়ায় দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি কিছুটা থমকে আছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা যে কারণে এখানে এসেছেন, তা হলো ফিফা আশিয়ান কাপ। আমরা অবশ্যই সেখানে খেলতে চাই। তবে কিরগিজস্তানে খেলার বিকল্পও আছে, কিন্তু এটি হবে অত্যন্ত কঠিন। বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে, তবে শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছি।’
এর পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের দলবদল ও ক্লাবের প্রস্তুতিহীনতা নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ। বর্তমানে ২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদলের কার্যক্রম চললেও মোহামেডান কিছুটা দল গোছালেও নিষেধাজ্ঞার কারণে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের মতো বড় দলগুলো এখনো দলবদলই শুরু করতে পারেনি। ক্লাবগুলোর সঠিক সময়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ও ম্যাচ খেলা না হলে জাতীয় দলের জন্য পুরোপুরি ফিট ও প্রস্তুত খেলোয়াড় পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করিয়ে দেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘একটি পেশাদার ক্লাবে প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি সাধারণত অন্তত ছয় সপ্তাহের হয় এবং খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিট হতে আরও ৫-৮টি ম্যাচের প্রয়োজন পড়ে। আমরা এখন খুব একটা ভালো পরিস্থিতিতে নেই। আমার চাওয়া ছিল খেলোয়াড়রা যেন মৌসুমের মাঝপথে অন্তত ৮-১০ সপ্তাহ অনুশীলন ও ৬-৭টি ম্যাচ খেলে আমাদের কাছে আসে, কারণ জাতীয় দলের ক্যাম্পে এসেই কোনো খেলোয়াড়কে রাতারাতি ফিট করে তোলা অসম্ভব।’ আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডুলি। আশিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হতে পারে বাংলাদেশকে। কোচ আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে এবং প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হলে তারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন।