
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের হাটহাজারী অংশে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক চালক বাধ্য হয়ে গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি (LPG) গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। যাত্রীদের বসার পেছনের সিটেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব সিলিন্ডার বেঁধে গাড়ি চালানো হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা ভয়াবহ বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বহু সময় চেষ্টা করেও গ্যাস না পেয়ে জীবিকা ও গাড়ির কিস্তি পরিশোধের তাগিদে বাধ্য হয়েই অনেকে রান্নার সিলিন্ডারকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একদিকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের এই যাতায়াত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সুযোগ বুঝে চালকরা নির্ধারিত ৩০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে আদায় করছেন ৫০ টাকা। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ commuters বা যাত্রীরা।
অটোরিকশা চালক দিদার ইসলাম জানান, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদেই তারা এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান সতর্ক করে বলেছেন যে এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় সিলিন্ডারের সামান্য ত্রুটি বা অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিশেষ করে জনবহুল যাত্রীবাহী যানবাহনে এভাবে উন্মুক্ত বা অরক্ষিতভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বহন করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই বিষয়ে মহাসড়কের দায়িত্বে নিয়োজিত রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দ্রুত ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এই ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ তৎপরতা আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।