
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও রামপুরহাটের টানা ২৫ বছরের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৭৪) মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বীরভূমে নিজ বাড়ির পাশের দলীয় কার্যালয় থেকে গত রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বাংলায় লেখা এক পৃষ্ঠার একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই চিরকুটে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য স্পষ্টভাবে কাউকে দায়ী করেননি। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়ে গভীর হতাশা ও অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন যে, রাজনীতিতে আসা তার জীবনের একটি বড় ভুল ছিল এবং তিনি পরিবারের তরুণ সদস্যদের ভবিষ্যতে কখনই রাজনীতিতে না জড়ানোর কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন।
চিরকুটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না এবং কোনো অবৈধ কাজের বিনিময়ে একটি টাকাও নেননি। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের সমস্ত অন্যায় বা ভুল কাজ তিনি নিজের ভেতরের নীতিবোধ দিয়ে মেনে নিতে না পারলেও, দলের ভেতরে সেগুলোর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে সোচ্চার হতে না পারার কষ্ট ও অনুশোচনাও তিনি ব্যক্ত করেন। তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (টিআরডিএ) সঙ্গে নিজের কাজের ব্যাপ্তি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি জানান যে, সাধারণ সভায় যোগ দেওয়া ছাড়া কোনো ধরনের টেন্ডার কমিটি, চেকে স্বাক্ষর করা, নকশা অনুমোদন বা অনাপত্তিপত্র বা এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আইনি ক্ষমতা বা প্রশাসনিক ভূমিকা ছিল না। তাঁকে অকারণে অপমানিত ও কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। মৃত্যুর আগে পরিবারের তরুণ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি রাজনৈতিক জটিলতা ও গোলকধাঁধা সম্পূর্ণ এড়িয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।