
সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির মধ্যকার অনভিপ্রেত সংঘর্ষের ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরিয়ে আনতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই এই বৈঠক শেষ হয়েছে। আগের হামলার ঘটনার ন্যায্য বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে জোরালোভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শিবির ও ছাত্রশক্তির শীর্ষ নেতারা। তবে একই বৈঠকে ক্যাম্পাসে সব দলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কোড অব কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেছে ছাত্রদল। শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির প্রতিনিধি ছাড়াও সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষকে বিরোধ ভুলে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান ঢাকা-৭ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। এমনকি তিনি দুই পক্ষকে কোলাকুলি করে বরফ গলানোর অনুরোধও জানান। কিন্তু জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জবি শিবির সভাপতি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ সেই অনুরোধে সাড়া দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। তারা স্পষ্টভাবে জানান যে, গত ৪ আগস্ট ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চালানো হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো অবস্থাতেই আপস বা সমঝোতায় যাবেন না। তাদের এই অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি কোনো ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাপ্ত হয়। তবে এই মতবিরোধের মাঝেও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জকসুর পক্ষ থেকে ১৫ দফা সংবলিত একটি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। সেই প্রস্তাবনার আলোকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সার্বজনীন কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়ন করার ব্যাপারে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।