
প্রযুক্তি বিশ্বে আবারও চমক সৃষ্টি করে জেড ডট এআই নিয়ে এসেছে তাদের নতুন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মডেল জিএলএম-৫.৩। বর্তমানে মডেলটি কোডিং প্ল্যানে উপলব্ধ থাকলেও খুব শীঘ্রই এটি তাদের এপিআই এবং পরবর্তীতে হাগিং ফেস-এ উন্মুক্ত করা হবে। এই মডেলটির স্কোর বৃদ্ধির হার সত্যি অবিশ্বাস্য। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্কে এটি মুনশট এআই-এর কিমি কে৩ এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্লড ফাবেল ৫ বা জিপিটি-৫.৬-সলের মতো শীর্ষ মডেলগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র প্রায় সাড়ে সাত শ বিলিয়ন প্যারামিটার নিয়ে মডেলটি এজেন্টিক কোডিং বেঞ্চমার্কের একেবারে শীর্ষে অবস্থান করছে, যা কিমি কে৩-এর আকারের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
জেড ডট এআই তাদের ব্লগ পোস্টে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জিএলএম-৫.৩ তৈরিতে মূলত পোস্ট-ট্রেনিংয়ের স্কেলিংয়ের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে। জিএলএম-৫.২ এর একই বেস মডেলটিকে আরও উন্নত ও দীর্ঘায়িত পোস্ট-ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে এই নতুন সংস্করূপে আনা হয়েছে। সাধারণত অনেকেই মনে করেন যে চীনা ল্যাবগুলোর এই অগ্রগতির পেছনে ডিস্টিলেশনের বড় হাত রয়েছে, কিন্তু প্রকৃত রহস্য লুকিয়ে আছে তাদের রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং বা আরএল কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণে। তারা আরও বেশি পরিবেশ, বৈচিত্র্যময় টাস্ক এবং সেগুলোর পেছনে পর্যাপ্ত কম্পিউট ব্যবহার করেছে, যা কোনোভাবেই সহজে ডিস্টিল করা সম্ভব নয়।
মার্কিন ল্যাবগুলোর তুলনায় চীনা ল্যাবগুলোর রিলিজ সাইকেল অত্যন্ত দ্রুত। ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিক যেখানে একটি মডেল বাজারে আনতে দীর্ঘ মাস সময় নেয়, সেখানে জেড ডট এআইয়ের মতো ল্যাবগুলোর সময় লাগে মাত্র কয়েক দিন। এই দ্রুত রিলিজ সাইকেলের কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সেরা মডেলগুলোর বিপরীতে চীনা ল্যাবগুলো পাবলিক অ্যাডপশনে দারুণ সুবিধা পাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এটি কেবল বেঞ্চমার্কের পেছনে ছোটা নয়, বরং তাদের অত্যন্ত দক্ষ ট্যালেন্ট পুল এবং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী গবেষণা ব্যাকগ্রাউন্ড তাদের এতটা কমপিউট এফিসিয়েন্ট করে তুলেছে।
সবশেষে বলা যায়, জিএলএম-৫.৩ মডেলটি সাইবার সিকিউরিটি বা তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ভালনারেবিলিটি ডিসকভারি কিংবা জটিল মাল্টিস্টেপ সিকিউরিটি টাস্কে এটি অসাধারণ পারফরম্যান্স দিচ্ছে, যা একই সাথে ডিফেন্ডারদের জন্য যেমন সহায়ক, তেমনি দ্বৈত ব্যবহারের কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। এই ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার বিস্তার প্রমাণ করে যে, এআই প্রযুক্তির ফ্রন্টিয়ারে মার্কিন একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চীনা ল্যাবগুলো এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে।