
নব্বইয়ের দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে এবার নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বহুল আলোচিত এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং খল অভিনেতা ডন হককে গত রোববার ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার আদালত প্রাঙ্গণে মামলার শুনানির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিনেতা ডনের একটি চাঞ্চল্যকর জবানবন্দির বিবরণ তুলে ধরেন। প্রসিকিউটর জানান, জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে ঘটনার দিন ওই বাসায় আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সালমান শাহের স্ত্রী সামিরাসহ অন্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে নাকে-মুখে ক্লোরোফর্ম স্প্রে করে সালমান শাহকে বেহুঁশ বা অচেতন করা হয় এবং সেই অচেতনের মাত্রা আরও গভীর করার জন্য তার শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর মরদেহটি ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই দড়িটি অভিনেতা ডন নিজেই নিজের কোমরে বেঁধে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আরও জানান, এই চাঞ্চল্যকর জবানবন্দির ভিত্তিতেই মামলাটি থানায় নতুন করে নথিভুক্ত হয় এবং মামলার আসামি হিসেবে ডনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে শুনানির সময় ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো জামিনের আবেদনও করা হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আলোচিত মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে ডনের গ্রেফতার ও জবানবন্দি মামলাটিকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।