
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হেনেছে ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ও শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল, যার তীব্রতা ও কম্পন অনুভূত হয়েছে বহু দূর পর্যন্ত।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রাথমিক তথ্যমতে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। যেহেতু দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে, তাই হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, নিহতদের অধিকাংশই ভোরের দিকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন এবং ধসে পড়া কংক্রিটের ছাদ বা দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এছাড়া মাউমেরে বন্দরের একটি মর্মান্তিক ভিডিওতে দেখা গেছে, ইন্টার-আইল্যান্ড ফেরির জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর টার্মিনাল ভবনের বিশাল ছাদ ভেঙে পড়েছে এবং গ্যাংওয়ে ধসে পড়ে কয়েকজন যাত্রী সমুদ্রের পানিতেও তলিয়ে গেছেন।
প্রধান কম্পনের পরপরই ডজনখানেক আফটারশকের কারণে ওই এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সরকারি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ভূমিকম্পের পরপরই কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কা থেকে দ্রুত সতর্কতা জারি করে, যার ফলে উপকূলবর্তী এলাকার আতঙ্কিত হাজার হাজার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে উঁচু পাহাড়ে এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিক্কা-র তালিবুরা গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো গণমাধ্যমকে জানান যে, হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙে তিনি যখন সন্তানদের নিয়ে বাইরে আসেন, ততক্ষণে উপকূলের মানুষ পাহাড়ের দিকে ছুটতে শুরু করেছে এবং সাগরের পানিও কিছুটা নেমে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রায় ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশকসহ একাধিক কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা রাতে আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সাহস পাননি। দুর্গম ও পার্বত্য এলাকা হওয়ার কারণে পুরো ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার এবং ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।