
তুচ্ছ পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্ত্রী এবং মায়ের মধ্যকার ঝগড়ার চরম ক্ষোভে নিজের দুই শিশু সন্তানকে হাওরের পানিতে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন এক পিতা। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই বাবার নাম কামরুল মিয়া। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং হাওর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল মুহাদ্দিস ও তুলনা নামের দুই শিশু। সন্তান দুজন হারিয়ে যাওয়ার পর তাদের পিতা কামরুল মিয়া এলাকায় প্রচার করেন যে শিশুরা নিখোঁজ রয়েছে এবং তিনি তাদের কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। এই কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় এলাকাবাসীও তাদের খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন। কিন্তু শুরু থেকেই কামরুল মিয়ার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও সন্দেহজনক আচরণ স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। একপর্যায়ে মঙ্গলবার গ্রামবাসী তাকে আটক করে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি বুধবার সকালে এ বিষয়ে মুখ খুলবেন বলে জানান।
পরবর্তীতে বুধবার সকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কামরুল মিয়া তার নিজের দুই সন্তানকে হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেন। এরপর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দিরাই-সিলেট সড়কের মদনপুর এলাকার দেখার হাওর এবং জাউয়া এলাকা সংলগ্ন হাওর থেকে পৃথক দুটি স্থান থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত কামরুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে কামরুলের স্ত্রীর সঙ্গে তার মায়ের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই পারিবারিক অশান্তি ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়েই তিনি এমন পৈশাচিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো গোপন কারণ রয়েছে কি না কিংবা এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।