
গলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নান্দনিক পরিবেশ ও ছিমছাম রূপ যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমীকে সহজেই বিমোহিত করে। সপ্তদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক দুর্গ এবং ভারত মহাসাগরীয় আবহাওয়ার মিশ্রণে তৈরি এই ভেন্যুটি তার নিচু গ্যালারি ও ঘাসযুক্ত বাউন্ডারি দিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় সম্পূর্ণ এক আলাদা পরিচিতি লাভ করেছে। তবে বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবেও মাঠটির গুরুত্ব কম নয়, কারণ এই ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তাদের ইতিহাসের ৫০তম টেস্ট ম্যাচ, যা এশিয়ার যেকোনো মাঠে সর্বাধিক টেস্ট আয়োজনের রেকর্ড। আর এই ঐতিহাসিক মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়েই ভারতীয় দল তাদের টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে, যা একই সাথে টিম ইন্ডিয়ার ৬০০তম টেস্ট ম্যাচও বটে।
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে কিছুটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ভারতীয় দল এই সিরিজটিকে দেখছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার বড় সুযোগ হিসেবে। নতুন টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিল পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা সুগম করতে হলে ভারতকে বাকি থাকা ম্যাচগুলোতে বেশ বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিতে হবে। তবে কাজটি মোটেও সহজ হবে না, কারণ উপমহাদেশের কন্ডিশনে ভারতীয় দল যে পুরোপুরি অজেয় নয়, তা ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। তার ওপর তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর অনুপস্থিতি এবং স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটারদের সাম্প্রতিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিয়ে লঙ্কানদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সফরকারীদের।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী পুরো ম্যাচজুড়েই বৃষ্টির সম্ভাবনা ও ভ্যাপসা গরমের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এই মাঠে প্রবল বাতাস বা ক্রস উইন্ড কাজ করায় স্পিনাররা বাড়তি ড্রিফট আদায় করার সুবিধা পাবেন, যা ব্যাটারদের নার্ভ পরীক্ষার মুখে ফেলবে। লঙ্কান শিবিরেও ইনজুরির কারণে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে এবং অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটার নিরোshan ডিকভেলা দীর্ঘ দিন পর টেস্ট স্কোয়াডে ফিরেছেন। অন্যদিকে ভারত দলেও কম্বিনেশনে কিছুটা চমক রয়েছে যেখানে স্পিন আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে দেখা যাচ্ছে তরুণ স্পিনারদের। সবমিলিয়ে, গলেতে দুই দলের এই হাই-ভোল্টেজ লড়াই কেবল একটি সাধারণ টেস্ট ম্যাচ নয়, বরং উভয় দলের জন্যই নিজেদের শক্তি প্রমাণ করার এক দারুণ মঞ্চ।