
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর ও কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল আলম জসিমকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ডিসি মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও নতুন কোনো মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ না দেখিয়ে তাকে মুক্ত করার আশ্বাসে দুই দফায় এই বিশাল অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়। আর পুরো এই আর্থিক লেনদেন ও তদবিরের মধ্যস্থতা করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের নেত্রী ও ৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি সোনিয়া আজাদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে মোট ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়। গত ৮ জুলাই সব মামলায় তার জামিন শেষ হওয়ার পর কারামুক্তির কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে যাতে তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হয়, সেজন্য ডিসি আমিরুলের সঙ্গে চুক্তি করে জসিমের পরিবার। প্রথম ধাপে জসিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম, ভাই আকবর হোসেন খোকন এবং মধ্যস্থতাকারী সোনিয়ার উপস্থিতিতে ডিসিকে ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। তবে ডিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই দিনই জসিমকে কোতোয়ালি থানার একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে শতভাগ মুক্তির আশ্বাসের কথা বলে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫ লাখ টাকা সরাসরি ডিসির হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোনিয়া আজাদের স্বামী আবু নাসের চৌধুরী আজাদও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। আওয়ামী লীগ আমলে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সুবাদে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় সোনিয়া খুব দ্রুত নিজের স্বামীকে মুক্ত করেন। কারাগারে জসিমের সঙ্গে একই কক্ষে থাকার সুবাদেই মূলত জসিমের পরিবার সোনিয়ার মাধ্যমে ডিসির সঙ্গে এই যোগাযোগ গড়ে তোলে। ভুক্তভোগী জসিমের ভাই আকবর হোসেন খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জামিন পাওয়ার দিনও সাজানো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এদিকে মধ্যস্থতাকারী সোনিয়া আজাদ গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দায়সারাভাবে স্বীকার করে বলেন, বর্তমান সময়ে জেল থেকে আসামি কীভাবে বের হয় তা সবাই জানে এবং তারা এই নিয়মের মধ্যেই পড়ে গেছেন।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার ডিসি মো. আমিরুল ইসলাম। তার দাবি, সাবেক কাউন্সিলর জসিমকে তিনি নিজেই ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন, তাই তাকে কারামুক্ত করার বিষয়ে তদবির বা অর্থ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। উল্লেখ্য, এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও বিভিন্ন বিতর্কের জেরে গত ১৮ জুন তাকে উত্তর বিভাগ থেকে সরিয়ে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখায় বদলি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে পুলিশ বিভাগে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।