
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে ডুবে সুমিত্রা দাস (৪০) নামের এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) কলকাতার কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন এলাকায় নতুন গাড়ি নিয়ে অনুশীলনের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা গাড়ির ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সুমিত্রা দাস তার মেয়েকে স্কুটারে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি গ্যারেজ থেকে তার স্বামীর সদ্য কেনা হুন্ডাই ইয়ন (Hyundai Eon) গাড়িটি বের করেন। আগামী ২২ আগস্ট তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও অনুশীলনের জন্যই তিনি একাকী গাড়িটি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অনভিজ্ঞতার কারণে গাড়ি চালানোর সময় সুমিত্রা ব্রেকের পরিবর্তে ভুলবশত জোরে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ফেলেন। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে পাশের একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে এবং পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পুকুর থেকে গাড়িটি ওপরে তোলে।
গাড়িটি পানি থেকে তোলার পর ভেতর থেকে সুমিত্রা দাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, উদ্ধারকালে তার মুখ গাড়ির পেছনের দরজার দিকে এবং পা স্টিয়ারিংয়ের কাছাকাছি ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি পানিতে ডুবে যাওয়ার পর তিনি বের হয়ে আসার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।