
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় গভীর রাতে এক গৃহবধূর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আতিকুল ইসলাম নামের এক যুব জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। বুধবার রাতে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকূল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আটককৃত আতিকুল ইসলাম সূর্যমণি ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন এবং তিনি ওই গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবেশী ওই গৃহবধূর স্বামী বুধবার নিজের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে গভীর রাতে গোপনে ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করেন যুব জামায়াত নেতা আতিক। বিষয়টি টের পেয়ে যান গৃহবধূর শ্বশুর, যিনি একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করেন। শ শ্বুরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে আতিকের নিজ পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে গৃহবধূর শ্বশুর আমির হোসেন হাওলাদার জানান, জামায়াত নেতা আতিক কিছুদিন ধরেই তার পুত্রবধূর সঙ্গে বিভিন্নভাবে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। বুধবার রাতে তার চিৎকারের পর পুত্রবধূর ঘর থেকে বের হয়ে কাঁপতে শুরু করেন আতিক। এমনকি তাড়াহুড়ো করে লুঙ্গি পরিবর্তন করে প্যান্ট পরার সময় স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সূর্যমণি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ইউসুফ হাওলাদার জানান, আতিক নির্দিষ্ট কোনো পদে আছেন কি না তা তার জানা নেই, তবে তিনি যে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, বিষয়টি নিশ্চিত। বুধবার রাতে এলাকাবাসী তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছিল। অন্যদিকে বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাকে কেউ একজন ফোনে জানিয়েছেন, তবে বিস্তারিত খোঁজখবর না নিয়ে তিনি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি দফারফা বা মিটমাট করা হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।