
সম্প্রতি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হওয়া ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ মিসরকে যুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল সৌদি আরব। এই গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা সৌদি আরবের তিন উচ্চপদস্থ সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি রাজপরিবারের একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এই প্রসঙ্গে জানান যে, অন্তত বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরব মিসরকে এই জোটে বা চুক্তিতে যুক্ত করতে আগ্রহী ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিনটি সূত্রই জানিয়েছে, রিয়াদের এই অনীহা এবং আপত্তির মূল কারণ হলো মিসরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির প্রশাসনের ওপর সৌদি সরকারের বাড়তে থাকা দূরত্ব ও অসন্তোষ।
সৌদি নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের মধ্যে এমন একটি ধারণাও স্পষ্টভাবে তৈরি হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মিসর আগের মতো আর জোরালো কোনো কৌশলগত বা সামরিক গুরুত্ব বহন করছে না। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যৌথভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো ধরনের সশস্ত্র আক্রমণ বা আগ্রাসন চালানো হলে তাকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে এবং যৌথভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিসরকে এই কৌশলগত জোটে অন্তর্ভুক্ত না করার পেছনে রিয়াদ ও কায়রোর মধ্যকার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারস্পরিক টানাপোড়েন, আঞ্চলিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।