
মিস ইউনিভার্স কানাডা প্রতিযোগিতার ন্যাশনাল কস্টিউম বা জাতীয় পোশাকের সেগমেন্টে আদিবাসী সংস্কৃতিকে উপস্থাপনকারী পোশাক পরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দুই প্রতিযোগী। প্রতিযোগিতার মঞ্চে এক প্রতিযোগী ঐতিহ্যবাহী পশমি পোশাক ও মুকলুক বুট এবং অপরজন পালকযুক্ত হেডড্রেস পরে অংশ নেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক আত্মসাৎ বা কালচারাল এপ্রোপ্রিয়েশন নিয়ে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রতিযোগিতার সাবেক বিজয়ী ও সহ-উপস্থাপক অ্যাশলে কলিংবুল।
সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কারিসা হ্যাভারকাম্প এবং জসলিন কেইলি দুজন প্রতিযোগিতাই প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কারিসা হ্যাভারকাম্প তাঁর ভুল স্বীকার করে জানান যে, ঐতিহ্যবাহী হেডড্রেস ও মুখের লাল হাতের ছাপ ব্যবহার করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মনে আঘাত দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। একইভাবে অপর প্রতিযোগী জসলিন কেইলি জানান, কানাডার প্রথম জাতির মানুষদের সম্মান জানাতে গিয়েই তাঁর এই সাজ, তবে তা যে ভুল বার্তা দিতে পারে তা তিনি বুঝতে পেরেছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছেন মিস ইউনিভার্স কানাডার পরিচালক সনি বোরেল্লিও। তিনি এই ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে একটি সুনির্দিষ্ট কস্টিউম গাইডলাইন তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া আদিবাসী সংস্কৃতির সঠিক মূল্যায়ন ও সম্মান রক্ষার্থে সাবেক বিজয়ী অ্যাশলে কলিংবুলকে এই সেগমেন্টের আনুষ্ঠানিক লিয়াঁজো বা উপদেষ্টা হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকরা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষ।