
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি রাজ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তর প্রতিরোধ এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের এক পর্যালোচনা সভায় এই নীতিনির্ধারক ঘোষণা দেন তিনি। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে জনমিতি রক্ষা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বাঁকুড়ার ওই প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এক দেশ এক আইন নীতির আওতায় খুব শীঘ্রই রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে। এরপরই জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে একটি কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত নতুন কিছু আইনি বিধিনিষেধ আনা হবে। যদিও প্রস্তাবিত ভূমি আইনে ঠিক কী ধরনের কড়াকড়ি থাকবে বা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বাধা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ওই বৈঠকে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশের জেরে জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে যাওয়া এবং স্থানীয় মানুষের জমি হারানোর অভিযোগ বহুদিনের। বর্তমান প্রশাসনের নীতি নির্ধারণেও সেই পুরনো রাজনৈতিক সুর ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটছে। সভার বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থা জঙ্গলমহল ও বাঁকুড়ার দরিদ্র মানুষকে ভুল পথে চালিত করে অবৈধ ধর্মান্তর ও মৌলবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। এসব অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতেই নতুন আইনি কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নিজের সরকারের বিগত বিভিন্ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি জানান, সীমান্তবর্তী জমি বিএসএফের হাতে অর্পণ, অবৈধ ওবিসি তালিকা বাতিল, নির্দিষ্ট কিছু ভাতা স্থগিত এবং মহররমের সময় তলোয়ার বহন নিয়ন্ত্রণের মতো কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল ধর্মান্তর ও জমি সংক্রান্ত দুটি নতুন আইন তৈরি করার কাজ বাকি রয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে, রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। প্রস্তাবিত এই বিধি পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে কাজ করছে। খসড়া বিধি পর্যালোচনা শেষে খুব শীঘ্রই তা বিধানসভায় বিল আকারে উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এই বিল পাস হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা চতুর্থ রাজ্য। তবে নতুন করে ধর্মান্তর ও জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন আনার এই ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।