
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতি। তিনি রাষ্ট্রপতির উচ্চাসনে আসীন হলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর নিজ আসন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সেখানে অতি দ্রুত উপনির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির হাল কে ধরবেন এবং কার হাতে উঠবে ধানের শীষের প্রতীক, তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মির্জা ফখরুলের পারিবারিক উত্তরাধিকারের বিষয়টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা এই আসনে প্রার্থী হতে পারেন। পেশায় চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. শামারুহ দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং সেখানে সমাজসেবামূলক কাজের জন্য সুপরিচিত। গত জাতীয় নির্বাচনেও তিনি দেশে এসে বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক রেখাপাত করেছিল। দল বা পরিবার যদি এই ধারা বজায় রাখতে চায়, তবে তাঁর প্রার্থিতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনীতির মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকা ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সফল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর সরব উপস্থিতি তাঁকে এই পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পরিবারটির রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ইতিহাস। তাঁর বাবা রুহুল আমিন ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন স্পিকার ও মন্ত্রী। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির আধিপত্য ধরে রাখতে যোগ্য উত্তরসূরি নির্বাচন করা দলটির জন্য অত্যন্ত কৌশলগত একটি বিষয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এই আসনে উপনির্বাচনের হাওয়া আরও তীব্র হবে এবং চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে কার নাম আসবে, সেটির জন্য এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।