
পশ্চিমাদের যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। সম্প্রতি রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের পরিকল্পনা বা চেষ্টার পাল্টা হিসেবে বড় ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার কোনো জাহাজে হাত দিলে তার উপযুক্ত ও সমপরিমাণ জবাব দেওয়া হবে, যা শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার তথাকথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা বাণিজ্যিক নৌবহরের ওপর ইউরোপীয় দেশগুলোর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে পুতিনের এই সরাসরি সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রুশ জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি সাপেক্ষে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে এর প্রতিক্রিয়া দেখানো হতে পারে। এমনকি সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের দায়িত্বাধীন এলাকাগুলোতেও মস্কো শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রুশ নাবিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি এখন ক্রেমলিনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এই বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডকে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুতিন। পাশাপাশি, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর প্রস্তাবও আহ্বান করা হয়েছে।
তবে সংঘাতের পাশাপাশি আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি মস্কো। পুতিন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী এবং বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মান জানিয়ে যেকোনো কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতেও তারা সমানভাবে প্রস্তুত রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, পুতিনের এমন হুশিয়ারি বিশ্ব বাণিজ্যে এবং সমুদ্রপথে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।