
চীনের বাজারে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে, যা দেশের কৃষিপণ্যের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে জুড়ে দেওয়া নানা কঠোর শর্ত ও নিয়মকানুন শতভাগ পূরণ করতে হবে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি খাত ও রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী নিয়ন্ত্রিত ও নথিভুক্ত উৎপাদনব্যবস্থায় এখনও বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস (জিএসিসি)-এর শর্ত অনুযায়ী, কেবল ভালো মানের কাঁঠাল উৎপাদন করলেই চলবে না; বরং বাগান নির্বাচন থেকে শুরু করে ফলের ব্যাগিং, কীটপতঙ্গ দমন, কীটনাশক ব্যবহারের হিসাব সংরক্ষণ, আধুনিক প্যাকিং, লেবেলিং, ফাইটোস্যানিটারি পরীক্ষা এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘ট্রেসেবিলিটি’ বা উৎস শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে। চীনের কাস্টমসের নিয়মানুযায়ী, রপ্তানিকারক বাগান ও প্যাকিং হাউসগুলোকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত হতে হবে এবং বাগানে ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস’ বা গ্যাপ (GAP) অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া, কোন তারিখে কী মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে, তার দুই বছরের লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কাঁঠালের মতো বড় ও ভারী ফলের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক প্যাকিং হাউস ও বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি বাংলাদেশের রয়েছে। ফল ধোয়া, গ্রেডিং, বাছাই এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্যাকিং সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রতিটি বাক্সে উৎপাদক ও প্যাকিং হাউসের নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করার শর্ত রয়েছে। কৃষিবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদনকে একটি সুনির্দিষ্ট রপ্তানি ব্যবস্থার মধ্যে আনা বেশ কঠিন। তবে পাইলট কর্মসূচি, চুক্তিভিত্তিক কৃষি এবং নির্দিষ্ট কিছু বাগান ও অঞ্চলকে নিবন্ধনের আওতায় এনে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে কাঁঠালের পাশাপাশি অন্যান্য ফলও আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে রপ্তানি করা যাবে