
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পারছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এর মাঝেই এবার আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর দরজাও যেন তার জন্য ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের মর্যাদাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি’ (আইএল টি-টোয়েন্টি), যেখানকার বর্তমান দল এমআই এমিরেটস আসন্ন মৌসুমের জন্য তাকে আর ধরে রাখেনি।
খেলোয়াড়ি জীবনের শেষভাগে এসে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে ও ফেরারি অবস্থানে রয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেশ বা দলের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরব রয়েছেন এবং ক্রিকেটও চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ তাকে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংসের জার্সিতে খেলতে দেখা গেছে। এর আগে আইএল টি-টোয়েন্টির চতুর্থ আসরে তিনি খেলেছিলেন এমআই এমিরেটসের হয়ে। তবে সেই আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। ৫ ইনিংসে ১২২.৩৪ স্ট্রাইক রেটে তিনি মাত্র ১১৫ রান সংগ্রহ করেন এবং ৮ ম্যাচে শিকার করেন সাকুল্যে ৩টি উইকেট। এমনকি একটি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে চরম সংগ্রাম করায় তাকে ‘রিটায়ার্ড আউট’ হতেও বাধ্য করেছিল এমআই এমিরেটস টিম ম্যানেজমেন্ট।
এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্সের কারণে দলে নিজের জায়গা ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। অন্যদিকে, একই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আরেক তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঠিকই ধরে রেখেছে দুবাই ক্যাপিটালস। গত মৌসুমে দুবাইকে প্লে-অফে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখা মুস্তাফিজ বিপিএলের ব্যস্ততার কারণে দেশে ফেরার আগে ৮ ম্যাচে ১৫.৫৩ গড়ে এবং ১১.৫০ স্ট্রাইক রেটে ১৫ উইকেট শিকার করেছিলেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা পাঁচ উইকেটশিকারির মধ্যে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন।
অবশ্য সাকিবের জন্য আইএল টি-টোয়েন্টির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটি এখনই বলা যাচ্ছে না। আগামী ১ অক্টোবর দুবাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইএল টি-টোয়েন্টির আসন্ন নিলাম থেকে দল পাওয়ার সুযোগ এখনও তার সামনে খোলা রয়েছে। এবারের আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ১৮ থেকে ২৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে পারবে এবং নিলামের পর ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ নিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর সুযোগ থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত কোনো দল সাকিবের প্রতি আস্থার হাত বাড়ায় কি না।