
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ৮৭ জন বন্দির মধ্য থেকে আরও দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে শ্যামনগর উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন—শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে মোজাম গাজী (৪৯) এবং নওয়াবেঁকী গ্রামের আবের গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম গাজী (৩৮)। তারা উভয়ই ওই সময় সাতক্ষীরা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ঠিক দুই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে দশটার দিকে আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে রফিকুল ইসলাম গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মোজাম গাজী একটি চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম গাজী অন্য একটি চেক ডিজঅনার মামলায় ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন সাতক্ষীরা কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে এবং সেই সুযোগে মোজাম ও রফিকুলসহ মোট ৮৭ জন বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে বিভিন্ন উপায়ে আত্মগোপনে ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ওই ঘটনার পর গত বছরের ১৫ আগস্ট একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৪৬ জন বন্দিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নতুন করে এই দুজনকে গ্রেপ্তারের ফলে বর্তমানে পলাতক বন্দির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে জানান যে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেই সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালানো এই দুই আসামিকে পাকড়াও করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বাকি পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে