বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বড় ধরনের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তিনি জানিয়েছেন যে এই জলপথটিতে ইরানের পেতে রাখা বিপজ্জনক মাইনগুলো অপসারণের জন্য মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরান সংকটের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে তারা ইরান ইস্যুতে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছেন এবং বর্তমানে পুরো হরমুজ প্রণালি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ইরানের সাথে এই বিষয়ে পুনরায় কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি তেহরানকে মোটেও বিশ্বাস করেন না, কারণ তারা বারবার তাকে মিথ্যা বলেছে। ট্রাম্পের জোরালো দাবি, ইরান অতীতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রেখেছিল এবং বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই মাইনগুলো পরিষ্কার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই পুরো প্রণালিটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করা হবে এবং হরমুজে ইরানের এখন আর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, যেটির মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে। ওমান এবং ইরানের মাঝখানে অবস্থিত এই কৌশলগত জলপথটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলে আসছে। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছিল। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানের বিভিন্ন সামুদ্রিক বন্দরের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানের বন্দরগুলোর আশপাশ থেকে তাদের পাহারা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে সেই সমঝোতা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি, কারণ গত ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়িয়ে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অবরোধ আরোপ করে