
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসুস্থতার খবরকে পুরোপুরি ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন যে খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং সম্প্রতি তার সাথে টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা দীর্ঘ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান এই তথ্য প্রকাশ করেন। তার মতে, একজন ব্যক্তি যদি একটানা এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তার মধ্যে গুরুতর কোনো স্বাস্থ্য জটিলতা থাকার প্রশ্নই আসে না। সেই সাথে সর্বোচ্চ নেতার সাথে হওয়া ওই বৈঠকটিকে ‘খুবই ভালো’ বলে অভিহিত করে তিনি জানান, বৈঠকে মূলত দেশের বর্তমান জাতীয় ঐক্য, সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়গুলোতেও কঠোর নজর দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে যখন ইরান কঠিন সময় পার করছে, ঠিক তখনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তাপ সৃষ্টি করেছিল। এর আগে শুক্রবার বেশ কয়েকটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইরানের ভেতরের কিছু সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করেছিল যে খামেনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই দাবির পরপরই দেশটিতে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় রবিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি খামেনির একটি পূর্বের স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থার ভিডিও প্রকাশ করে পরিস্থিতির কিছুটা জানান দেয়। এরপর খোদ রাষ্ট্রপতির সরাসরি এই বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা এবং সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের এই মুহূর্তের প্রধান অগ্রাধিকার। এমন এক সময়ে সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে তার নিয়মিত কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে আসায় ইরানের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।