
জনসেবামূলক বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং নানা অনিয়ম রোধে মাঠ প্রশাসন এখন আরও বেশি তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কুবির ভূঁইয়া অত্যন্ত গোপনীয়তা ও আকস্মিকভাবে গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, দ্বিতীয় যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। সোমবার বিকেলে হুট করেই এই তিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক, যা স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সাধারণত জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত দাপ্তরিক রুটিনের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনের ঘটনা খুব সচরাচর দেখা যায় না। তবে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কুবির ভূঁইয়া কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সরাসরি এই কার্যালয়গুলোতে উপস্থিত হন এবং সাব-রেজিস্ট্রারের খাস কামরা, বিচারিক কার্যক্রমের এজলাস, রেকর্ড রুম এবং দলিল নকলখানাসহ পুরো কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস কক্ষ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিদিন নিয়মমাফিক ঠিক কতটি দলিল সঠিকভাবে সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্র অত্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ও ব্যত্যয়। জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ওই রেজিস্ট্রি অফিসে যথাযথ কোনো প্রত্যয়ন ছাড়াই গোপনে বালাম বই লেখা হচ্ছিল বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অথচ সরকারি নিয়ম বা আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের প্রত্যয়ন ছাড়া এভাবে বালাম বই লেখার কোনো অবকাশ নেই। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের বেআইনি কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অননুমোদিত বা ভুয়া অনুরূপ বালাম বই তৈরির বড় ধরনের সুযোগ বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা আইনি জটিলতা বাড়াতে পারে।
অফিসটির সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম এবং দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উদাসীনতার দৃশ্য দেখে জেলা প্রশাসক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জানা যায়, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল বাতেন প্রায় এক বছর আগে এই কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন। তবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নিজস্ব একটি বলয় বা সিন্ডিকেট তৈরি করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা উপায়ে হয়রানি করার নানাবিধ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ডিসির এই আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়ম ও হয়রানির চিত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে কঠোর ব্যবস্থার গুঞ্জন শুরু হয়েছে।