
ভারতের গুজরাটের ভাদোদরা শহরে সমাজের সকল নেতিবাচক ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক সাহসী নারী রিকশাচালক। সাধারণ পেশার বাইরে গিয়ে তিনি প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে কিংবা অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে যেতে ইচ্ছুক যাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুপ্রেরণাদায়ক নারী রিকশাচালকের একটি ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে অর্থাৎ ভোর ৩টার দিকে এক দম্পতির সঙ্গে ওই নারী রিকশাচালকের সাক্ষাৎ হয়। তাঁর চালিত রিকশার পেছনে খুব স্পষ্টাক্ষরে বড় করে লেখা রয়েছে যে, গভীর রাতে কোনো ধরনের জরুরি অবস্থা বা হাসপাতালে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই যাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নারীর স্বামী নিজেও পেশায় একজন রিকশাচালক। স্ত্রীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য তিনি নিজে হাতে তাঁকে রিকশা চালানো শিখিয়েছেন এবং সমাজের নানা কুত্সিত কথা ও লোকলজ্জার ভয়কে পুরোপুরি উপেক্ষা করে পরম মমতায় স্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শুধু নিজের প্রিয় স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং এই নারী এখন পর্যন্ত এলাকার প্রায় ৫০ জন পিছিয়ে থাকা নারীকে রিকশা চালানো প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরও স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।
এই অনুপ্রেরণাদায়ক দম্পতির মহৎ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। ওই নারী রিকশাচালকের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন হলো একদিন তিনি নিজের কষ্টার্জিত আয় দিয়ে নিজের একটি চার চাকার গাড়ি বা নিজস্ব বাহন কিনবেন। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এই দুনিয়া বা সমাজ কী বলল তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না; বরং তাঁর স্ত্রীর স্বাধীনতা এবং আত্মনির্ভরশীলতাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।