
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের এমপিরা যদি দলীয় প্রথার বাইরে গিয়ে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন, তবে জামায়াত জোট সমর্থিত ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদই নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।
গত সোমবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রে যদি যথাযথ সংস্কার সাধিত হতো, তবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ একজন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখতেন এবং জাতি একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতার সুমহান সেবা থেকে বঞ্চিত হতো না। কিন্তু বিএনপির রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবং সংস্কারের ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মানসিকতার চরম অভাবেই জাতি আজ এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সালসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় যে, ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই নির্বাচনে তাদের প্রার্থী বিজয়ী হওয়া যখন নিশ্চিত, ঠিক তখন জামায়াত জোট কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী দিল। এর জবাবে হামিদুর রহমান আজাদ স্পষ্ট করে জানান যে এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য বিষয় নয়, বরং তাঁরা মূলত সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও চর্চাটাকে সামনে নিয়ে আসতে চান। সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বস্তরের পরিচালনা ব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমেই হওয়ার কথা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকত্ব বা রাষ্ট্রপতির পদটিও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্ধারিত হয়ে যায়, তবে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা ব্যাহত হয়। তাই তাঁরা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেবারও ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির নিজস্ব দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না এবং জামায়াতের সমর্থন নিয়েই তারা সরকার গঠন করেছিল। সে সময় অন্যান্য দল চাইলে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রার্থীকে পরাজিত করার একটা বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের গাণিতিক সম্ভাবনা হয়তো অনুকূলে নেই, তবুও জামায়াত জোট এই মনোনয়ন সংগ্রহ করার পেছনে মূল কারণ হলো বিএনপির জনগণ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিচারিতা জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিএনপি গণভোটের রায়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি এবং যদি তা করা হতো, তবে সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মাঝেই চলে আসত। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যরা দলীয় হুইপের কারণে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজ বিবেচনে ভোট দিতে পারছেন না। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জনগণের অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণগুলো তুলে ধরে তিনি জানান যে তাঁরা সবসময় এর সংস্কার চেয়েছেন এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। পরিশেষে তিনি reiterate করেন যে, সংসদ সদস্যরা যদি স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন, তবে জাতি একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেত।