
নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো ভবনেই অব্যাহত রয়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দেওয়া, বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং রড বেরিয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী ও তাঁদের স্বজনদের প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান প্রশাসনিক ও চিকিৎসালয়ের এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই ভবনটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ৫০ বছর, যার মেয়াদ গত ২০২৫ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন কোনো ভবনের ব্যবস্থা না হওয়ায় বাধ্য হয়েই এই জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই হাসপাতালের দৈনন্দিন জরুরি ও সাধারণ চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি হাসপাতাল ভবনটিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরো ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদের বেশ কিছু অংশের পলেস্তারা ইতোমধ্যে খুলে পড়ে ভেতরের রডগুলো সম্পূর্ণ জং ধরা অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে এসেছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এসব খণ্ডিত অংশের নিচ দিয়েই বাধ্য হয়ে রোগী, শিশু, বৃদ্ধ স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকরা চলাচল করছেন, যার ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার তীব্র আশঙ্কা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হাসপাতাল ভবনটির এই বেহাল দশা দীর্ঘদিনের হলেও সংশ্লিষ্ট মহলের জোরালো কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দায়সাড়া পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আগে থেকেই ভবনের চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন। চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন সজিব হোসেন ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে, অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে তাঁরা ভবনের খসে পড়া ছাদ ও ফাটল দেখে সবসময় আতঙ্কে থাকেন যে কখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
এই বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ জানান যে ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় সেখানে সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অতি দ্রুত হাসপাতালটির জন্য একটি নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও তাগিদ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফাতেমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে ১৯৭৫ সালে নির্মিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের নির্ধারিত ৫০ বছরের আয়ুষ্কাল গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেই শেষ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে তারা ইতোমধ্যে প্রকৌশলী ডেকে পুরো ভবনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করিয়েছেন। গত অর্থবছর থেকেই হাসপাতালের কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে সীমিত পরিসরে মেরামতের কাজও শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে সম্প্রতি রাজশাহী থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রকৌশল দল এসে ভবনটি পরিদর্শন করে মতামত দিয়েছেন যে ভবনের নির্দিষ্ট দুটি স্থানে সমস্যা বেশি গুরুতর হওয়ায় কেবল সাধারণ প্লাস্টার করলেই তা টেকসই হবে না। তাই আপাতত কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়ার জন্য সেখানে কেমিক্যাল মিশ্রিত রং বা বিশেষ উপায়ে মেরামতের কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।