
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা জুড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলা ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অটোরিকশার লাগাম টেনে ধরতে এবার বড় ধরনের তথ্য সংগ্রহের কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানী জুড়ে চলাচলকারী সাধারণ রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার মালিক, চালক, গাড়ি রাখার গ্যারেজ এবং এ জাতীয় অবৈধ যানবাহন তৈরির কারখানার যাবতীয় খুঁটিনাটি বিবরণ সংগ্রহ করে তা দ্রুত উচ্চ মহলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে সকল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারদের (ডিসি) কাছে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি সদরদপ্তরের অপরাধ ও অপস বিভাগের স্মারক নম্বর সংবলিত এই চিঠিতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সুনির্দিষ্ট চাহিদার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এসব তথ্য প্রেরণের কঠোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। মূলত রাজধানীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনায় তিনটি পৃথক ছক বা ফরমেটে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রথমত, ছক-ক এর মাধ্যমে রিকশা বা অটোরিকশার প্রকৃত মালিকের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর, গ্যারেজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা, গ্যারেজে থাকা মোট অটোরিকশার সংখ্যা এবং গ্যারেজ মালিকের রাজনৈতিক পরিচিতি ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয়ত, ছক-খ এর মাধ্যমে এসব গাড়ি চালকদের পূর্ণাঙ্গ নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ছক-গ এর মাধ্যমে অবৈধ অটোরিকশা ও রিকশা তৈরির ফ্যাক্টরিগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান, কারখানার মালিকের নাম-ঠিকানা, দৈনিক বা মাসিক কতটি রিকশা তৈরি হয় তার পরিসংখ্যান এবং রাজধানীর ভেতরে গাড়িগুলোর প্রবেশের মূল পয়েন্ট ও গ্যারেজের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ নিরাপত্তা বিধান এবং রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই ব্যাপকভিত্তিক তালিকা ও ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ কার্যকর করা হচ্ছে। সংগৃহীত এসব গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ এবং দাপ্তরিক অফিশিয়াল মাধ্যমে সরাসরি ডিএমপি সদরদপ্তরে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল ডিসি ও থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।