
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে উত্তরাঞ্চলের এই বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাঁরা সরকার গঠন করতে পারেননি। এর ফলে বর্তমানে বিএনপি সরকার গঠন করে দেশটাকে সম্পূর্ণ নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো পরিচালনা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত সোমবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। দেশ ও উত্তরাঞ্চলের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষ জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দেয়, এই অজুহাত দেখিয়েই বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতা অতীতে মন্তব্য করেছিলেন যে উত্তরাঞ্চলকে নাকি সারা জীবন পিছিয়ে পড়েই থাকতে হবে।
বোনারপাড়ায় সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই বোনারপাড়াতেই জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের দুই শীর্ষ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে নারীলোভী হওয়া কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিন্দুমাত্র অভিযোগ ছিল না। অথচ তাঁদেরকে অকারণে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, দেশে কোনোভাবেই আর খুনের রাজনীতি কায়েম করতে দেওয়া হবে না।
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতার লোভ এবং অবৈধ দখলদারির মানসিকতার কারণে দেশ থেকে শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে দেশের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে আবারও রাজপথে নেমে আসতে হবে। তাই তিনি ২০২৪ সালের মতো সবাইকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের সব ধর্মের মানুষ এবং মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি জানান যে দেশজুড়ে চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এসব জঘন্য অপরাধে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার সাঘাটায় এই জনসভায় যোগদানের পূর্বে ডা. শফিকুর রহমান নিহত জামায়াত-শিবির নেতার কবর জিয়ারত করেন এবং শোকার্ত স্বজনদের সঙ্গে একান্ত মতবিনিময় করেন। গাইবান্ধা-৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেস আলীর সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সংসদ সদস্য মো. আবদুল করিম, সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান, সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।