
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর দেশের প্রায় সবকটি শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছে। তবে এর বিপরীতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী কৃতকার্য বা পাস করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে।
ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৮.৪০ শতাংশ এবং গণিতে ৮২.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৪.৭ এবং গণিতে ৭৭.১৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজিতে ৮১.২৯ এবং গণিতে ৮১.৭৫ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ইংরেজিতে ৭১.৮৪ এবং গণিতে ৮৩.৩৪ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ইংরেজিতে ৭২.২৭ এবং গণিতে ৮০.০৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া বরিশাল বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯.২৪ এবং গণিতে ৭৭.৯৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯.১১ এবং গণিতে ৭৫.৯৬ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ইংরেজিতে ৭২.৯১ এবং গণিতে ৭১.০৫ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৬.৬৪ এবং গণিতে ৬৯.৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৯.২১ এবং গণিতে ৬৯.৯৭ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ইংরেজিতে ৯৪.৭৯ এবং গণিতে ৭০.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বোর্ডভিত্তিক এই বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, ইংরেজি ও গণিত বিষয় দুটিই পরীক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে, যেখানে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। এর আগে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া কেবল ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩.৯৯ শতাংশ কম। সার্বিকভাবে পাসের হার কমার পেছনে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক হারে ফেল করার বিষয়টি প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।