
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অতীতের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আগامیের বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ এবং তারা কী চিন্তা ও প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল তা অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারী কাঠামোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন এবং ভিন্নমত দমনের মতো ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকরাও হয়রানি ও মামলা-মোকদ্দমার শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিন্নমত দমন করা কখনই গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে না।
উপাচার্য আরও বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না; বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অপরাধের বিচার হতে হবে সম্পূর্ণ আইনের ভিত্তিতে, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নয়। এছাড়া দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনাকে ধারণ করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।