
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামের বৈঠকে সমস্ত ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি নিখাদ আনুগত্য এবং সংকটকালে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে বর্তমানে চারজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
এই তালিকায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিগত ১৭ বছরের কঠিন আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার অনন্য ভূমিকা এবং কারাবরণ ও নানা প্রলোভনের মুখেও দলের প্রতি অবিচল থাকার বিষয়টি তাকে এই দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। এছাড়া আলোচনা থাকা অপর তিনজন প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে এই চার নেতাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল এবং দেশজুড়ে তাদের রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সংকটকালে দলের জন্য অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়ের কারণে ড. আবদুল মঈন খানের নামও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া সামরিক পটভূমি, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল ও রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যিনি ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত তার মধ্য থেকেই একজনকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেবেন।