
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের বর্জন ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের তীব্র বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন। নিরাপত্তা সংকট ও ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রবল বিরোধিতার কারণে বর্তমানে কর্মরত নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের কেউ এই অধিবেশনে অংশ নেননি।
শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এই অধিবেশন শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে। তবে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই সিনেট সভায় উপস্থিত ছিলেন না নির্বাচিত ২৪ জন শিক্ষক প্রতিনিধির কেউই। মূলত আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'হলুদ দল'-এর রাজনীতিতে যুক্ত এই শিক্ষক প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তার অভাবে সিনেট কক্ষে প্রবেশ করেননি।
এদিকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সিনেটে যোগদানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সকাল থেকেই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি। ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ সিনেটে স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ছাত্রনেতারা। পাশাপাশি সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের কাছে ১৯ দফা দাবি সম্বলিত খোলাচিঠি দিয়েছে চাকসু।
অন্যদিকে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানান, প্রশাসন শিক্ষকদের আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেয়নি এবং সিনেটে অংশ নেওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে কিছু ছাত্রসংগঠনের দাবির মুখে শিক্ষক প্রতিনিধিরা নিজেদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই অধিবেশন বর্জন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সিনেটের সব স্তরে নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনেরও আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য।