
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ২১ জুন বিকেলে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার পর দীর্ঘ ৪৯ দিন তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন। নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি এনামুল হক সরকার ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয় এবং স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসাও করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পরেই বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থানরত ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান যুবদল নেতা মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ, রবিউল ইসলাম, আশরাফ ও মোনারুলসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
ওই সময় স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় এনে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।