
২০২৪ সালের সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতার পালাবদলের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের চরম ঝুঁকি এবং তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের সম্ভাবনা জেনেই তিনি এই রাজনৈতিক জুয়া খেলছেন। অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিলেও, জাতিসংঘের তদন্ত ও ফোনালাপের অডিও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার পেছনে প্রধানত দলীয় অস্তিত্ব রক্ষা ও রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার তাগিদ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশত্যাগের পর থেকে দেশের বাইরে অবস্থানকারী সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিবিসিকে দেওয়া এক মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, নেত্রী ফিরে না এলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংসতা ও সংকট চলতেই থাকবে এবং প্রতিপক্ষরা দলটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। বিশেষ করে শীর্ষ নেতাদের দেশত্যাগের পর মাঠ পর্যায়ের মধ্যম সারির নেতা ও সমর্থকরা যখন সম্ভাব্য হামলার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়েছেন, তখন দলের অভ্যন্তরেও একধরনের অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ঢাকাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং দলের হাল ধরতে ব্যক্তিগত ঝুঁকি সত্ত্বেও দেশে ফিরে পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ছাড়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সামনে আর কোনো বড় পথ খোলা নেই।