
প্রচণ্ড দাবদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির অভাবে ইউরোপের দানিউব ও রাইনের মতো প্রধান প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে উঠেছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে নদীর দীর্ঘ বালুচর ও তলদেশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নের শিকার হওয়া এই মহাদেশে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে শুধু পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতল করা, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবের পানি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে রেকর্ড পরিমাণ কমে মাত্র ৪ ইঞ্চিতে নেমে এসেছে। পানির অভাবে দেশটির প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি বন্ধ রাখতে হওয়ায় এটি এখন মাত্র ১০ শতাংশ ক্ষমতায় কাজ করছে। একই সমস্যায় পড়া রোমানিয়াও চেরনোভোদা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল চুল্লিতে পানি ধরে রাখতে নৌবাহিনী ও অস্থায়ী বাঁধের সহায়তা নিচ্ছে। অন্যদিকে, পণ্য পরিবহনের প্রধান ধমনী খ্যাত রাইন নদীর অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন, যেখানে পানির স্তর তলানিতে ঠেকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের বহনক্ষমতা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো না হলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।