
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা চালানোর দাবির পর মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মাসে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর এই সাম্প্রতিক ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সৌদি আরব কিংবা কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো এই হামলার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও লোহিত সাগর এবং সংলগ্ন অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাধ্যমেই সৌদি আরবের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৬৬ শতাংশ পরিচালিত হয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে থাকে, তবে তেলবাহী জাহাজগুলোকে বাধ্য হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপের মতো দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক সপ্তাহ বেশি সময় লাগার পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া, বীমা খরচ এবং জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বরং এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।