
প্রতিদিন নিয়ম মেনে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যদি সারাদিন শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন লাগে, তবে এর পেছনে কেবল ঘুমের ঘাটতি নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক জটিলতাও দায়ী থাকতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা অনেকের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির একটি বড় কারণ। অতিরিক্ত ওজন শুধু মানুষের বাহ্যিক গঠন বা চলাফেরার ওপরই প্রভাব ফেলে না, এটি ঘুমের মান, শরীরের শক্তির মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। অনেকেই ঘড়ির কাঁটা ধরে পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হওয়ার কারণে সকালে ওঠার পরও চরম ক্লান্তি অনুভব করেন।
স্থূলতার কারণে মূলত গলার চারপাশে চর্বি জমে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামক মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার মুখে পড়েন, ফলে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটালেও গভীর ও আরামদায়ক ঘুম হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের গভীর যোগসূত্র রয়েছে, যা শরীরকে দ্রুত শক্তিহীন করে ফেলে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি রাখার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পুরোপুরি বর্জন করা উচিত। একই সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা যেমন দ্রুত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঘুমের মান উন্নত করতে দারুণভাবে সহায়তা করে।
নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো স্ক্রিন ব্যবহারের পরিমাণ কমানো এবং ঘুমের সময় অতিরিক্ত নাক ডাকা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে দীর্ঘদিনের এই ক্লান্তিকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং মানসিক অবসাদের মতো জটিল রোগ বা ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি ক্লান্তি দূর না হয় এবং এর সঙ্গে সকালের দিকে মাথাব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।