
টানা দেড় বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে জনসম্মুখে উপস্থিত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বিজয় দিবসের মাস ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। একই সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ হাসিনাকে গ্রোথ ও কূটনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে যখন তিনি দেশে ফেরেন, তখনও তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বারবার গ্রেপ্তার করা হলেও দেশের জনগণের স্বার্থে তিনি কোনোদিন ভয় পাননি। এবারও দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা কিংবা তাঁর জীবননাশের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও তিনি দেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্নগুলোকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলছে। এসব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতন্ত্র ও পুনর্মিলন (Reconciliation) ফিরিয়ে আনতেই তিনি ফিরতে চান।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পরিবারের ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিগত দিনের বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সজীব ওয়াজেদ জয় একটি বিতর্কিত ও শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেন। জয় দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ডের ওপর ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দিয়ে রাখা হয়েছে, সেখানে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি জানান, যেদিন থেকে সকল হত্যাকাণ্ডের সমান বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পুলিশের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে, কেবল সেদিনই তাদের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশের প্রশ্ন উঠবে। এছাড়া, ভারতে অবস্থানের সময় শেখ হাসিনাকে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের (Head of State) সমমর্যাদা, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য তিনি ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।