
কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন জীবন বিমা নিগম বা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এলআইসি) অফার ফর সেল (ওএফএস) বা শেয়ার বিক্রি প্রক্রিয়ার প্রথম দিনে প্রাতিষ্ঠানিক ও এইচএনআই বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। প্রথম দিনেই এই অংশটি ৩.৩২ গুণ বা প্রায় ৩৩১.৮৬ শতাংশ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। বিএসই-র তথ্য অনুযায়ী, ৩৮২ টাকা বেস ফ্লোর প্রাইজে প্রায় ২৮.৪৬ কোটি শেয়ারের বিপরীতে মোট ৯৪.৪৫ কোটি শেয়ারের জন্য বিড জমা পড়েছে। এই শক্তিশালী চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অতিরিক্ত ৫০.৬০ কোটি শেয়ার বিক্রির জন্য গ্রিনশু অপশন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কোম্পানির পরিশোধিত ইক্যুইটির ৪ শতাংশের সমান।
প্রাথমিক ২.৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের সাথে এই অতিরিক্ত অংশ যোগ হওয়ায় মোট অফারের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২.২২ কোটি শেয়ার বা কোম্পানির মোট ৬.৫ শতাংশ। এর ফলে এটি ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সেকেন্ডারি শেয়ার বিক্রির ঘটনা হিসেবে পরিগণিত হতে যাচ্ছে। ডিিপামের সচিব সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তার মাধ্যমে এই ওভারসাবস্ক্রিপশনকে ভারতের মূলধন বাজারের গভীরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার বড় প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি খুচরা বিনিয়োগকারী ও যোগ্য এলআইসি কর্মচারীদের আজকের এই বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খুচরা বিনিয়োগকারী এবং যোগ্য কর্মচারীরা ১০ টাকা ছাড় পাওয়ার পর প্রতি শেয়ার ৩৭১.১০ টাকা কার্যকরী মূল্যে বিড করতে পারবেন, যেখানে অ-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য কাট-অফ মূল্য নির্ধারিত রয়েছে ৩৮৩.১০ টাকা। বর্ধিত অফারের ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮.২২ কোটি শেয়ার কেবল খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ শেয়ার যোগ্য কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ওএফএস ঘোষণার পর বাজারে শেয়ার সরবরাহের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মঙ্গলবার বিএসই-তে এলআইসি-র শেয়ার ৭.৮৬ শতাংশ কমে ৩৯১ টাকায় এবং এনএসই-তে ৮.৬৮ শতাংশ কমে ৩৯১.৩০ টাকায় নেমে এসেছে। চলমান অর্থবছরে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির অংশ বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহ করেছে।