
কোপা দো ব্রাজিলের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সান্তোসের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে রেমো। তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ। তার উসকানিমূলক উদযাপন ও গ্যালারির উদ্দেশ্যে করা মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রেমো ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্লাবটির সভাপতি অ্যান্তিনো কার্লোস টেক্সেইরা প্রকাশ্যেই নেইমারকে ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ম্যাচের অনেক আগে থেকেই। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের আগে অনুশীলনের সময় রেমোর সমর্থকরা নেইমারকে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে দুয়ো দেন এবং স্টেডিয়ামে বারবার ‘জাহান্নামে যাও নেইমার’ স্লোগান দিতে থাকেন। সে সময় মাঠে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কেবল হাত নেড়ে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। তবে মাঠের খেলায় দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ৭৪ মিনিটে দলের হয়ে জয়সূচক ও একমাত্র গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে সান্তোসকে ১-০ ব্যবধানের জয় এনে দেন তিনি। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ হাতছাড়া করেন, তবুও তার অবদানই সান্তোসকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেয়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতেই যেন পাল্টে যায় পরিস্থিতি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির দিকে তাকিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন নেইমার এবং দুই হাত উঁচিয়ে নাচতে নাচতে বলতে থাকেন, ‘তোমাদের বিদায় হয়েছে, বিদায় হয়েছে।’ তার এই ব্যঙ্গাত্মক আচরণে রেমোর সমর্থক ও কর্মকর্তারা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ম্যাচের পর মিক্সড জোনে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং রেমোর কিছু কর্মকর্তা আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিও করেন। পরবর্তীতে স্টেডিয়াম থেকে গাড়ি করে বের হওয়ার সময়ও নেইমারের গাড়ি ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে রেমো সভাপতি টনহাও বলেন, সান্তোসের এমন অহেতুক আচরণের কোনো প্রয়োজন ছিল না। বিশেষ করে শিশুরা যাকে নিজেদের আদর্শ মনে করে, সেই নেইমারের কাছ থেকে এমন উসকানিমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন, এমন মানুষদের তারকা বা আদর্শ বানানোই তাদের বড় ভুল ছিল। সব মিলিয়ে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে নেইমারের সেলিব্রেশন ও রেমো সভাপতির এই কড়া মন্তব্য এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।