
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কার্যপ্রণালী নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে অসন্তোষ দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার পর এবার উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা ‘কনকাকাফ’-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে বিশ্বকাপের আগে কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশই ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে একাট্টা হয়ে সমর্থন জানিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক ও ফিফার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্টির জেরে সদস্য দেশগুলো এখন তাদের পূর্বের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে গত শুক্রবার একটি জরুরি বৈঠকে বসেছিল কনকাকাফ। বৈঠকসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সদস্য দেশগুলোর একটি বড় অংশ উয়েফার কঠোর অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও, অন্যরা কূটনৈতিক কারণে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা রাখঢাক বজায় রাখছে।
তবে এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কিছু ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতাও কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কোস্টারিকা ও জ্যামাইকা যৌথভাবে ২০৩১ নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে। আগামী নভেম্বরে ফিফার বিশেষ কংগ্রেসে এই আয়োজক দেশ নির্ধারিত হওয়ার কথা থাকায়, অনেক সদস্য দেশ প্রকাশ্যে কোনো সংঘাতে জড়ানোর আগে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নয় বলে জানা গেছে। ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলকে অস্বস্তিতে ফেললেও, টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বার্থে তারা আপাতত সরাসরি বিরোধিতায় যেতে চাইছে না।
এদিকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের গুঞ্জনের মধ্যে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানির নাম সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। কানাডার এই ফুটবল কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ফিফার সুশাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ও পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তার বর্তমান ও তাৎক্ষণিক লক্ষ্য কনকাকাফ সভাপতির পদেই পুনর্নির্বাচিত হওয়া।