
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা তাদের আন্দোলন ও শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তারা এই কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এর আগে গত রোববার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগта সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন করা হয়, যার ফলে শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখের একটি সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনের এই তীব্রতার মধ্যেই রোববার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, পূর্বে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন এবং পরদিন ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। এছাড়া যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো এবং পরবর্তীতে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের এই বিজ্ঞপ্তির পর আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান যে তারা সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তে সাড়া দিচ্ছেন। প্রজ্ঞাপন জারি এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর তারা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর আগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগে বিলম্বের কথা জানিয়ে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন ২৯ অক্টোবর যোগদানের কথা বললেও, পরবর্তীতে শিক্ষকদের দাবির মুখে যোগদানের তারিখ এক মাসের বেশি এগিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।