
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর যুক্তরাজ্যে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল চুরির ঘটনা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। জ্বালানি চুরি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘ফোরকোর্ট আই’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে দেশটির বিভিন্ন পেট্রোল স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার জ্বালানি চুরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পেট্রোলপাম্পে অর্থ পরিশোধ না করে জ্বালানি নিয়ে চম্পট দেওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে পাইকারি বাজারে তেলের দাম বাড়ায় চুরি হওয়া জ্বালানির আর্থিক মূল্য ৪৮ শতাংশ এবং চুরির পরিমাণ ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯০০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের ৫৫০টি পেট্রোলপাম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি চুরির ঘটনা ঘটত, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৮৭২টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টাকা না দিয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়া কিংবা তেল নেওয়ার পর সামর্থ্য নেই বলে অজুহাত দেওয়া। অতিরিক্ত দামের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশের হাতে পাম্পের কর্মীরা মৌখিক নির্যাতন ও সহিংসতার শিকারও হচ্ছেন। এই সংকট মোকাবিলায় ‘ফোরকোর্ট আই’ মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ফেসওয়াচ’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আগামী শরৎকাল থেকে দুই হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতাকে বিনামূল্যে অপরাধ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেবে।
এদিকে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা হলেও শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় জ্বালানির বাজার ফের অস্থির হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ সরকার অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন কর ও পরিচালন ব্যয়ের বৃদ্ধimesর কারণেও তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।