
দীর্ঘ ১৫ মাস পর যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। অভিনেতার দেশে ফেরার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ।
তবে এই ফেরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। পারিবারিক ও চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ১৪ আগস্টের আগেই তাকে পুনরায় লন্ডনে ফিরে যেতে হবে। কারণ আগামী ১৫ আগস্ট সেখানে তার চিকিৎসাগত ফলোআপ ও পুনরায় পরীক্ষা-নীরিক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে লন্ডনে পাড়ি জমান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। গত বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও জটিলতা ও উচ্চ ঝুঁকির কারণে টিউমারের সম্পূর্ণ অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই সেখানে তার নিয়মিত কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা চলছিল। দীর্ঘ এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাকে ইতিমধ্যে ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। একটানা চিকিৎসা ও শারীরিক সংগ্রামের ফলে তার চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, যা সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে তোলা একটি ছবিতেও স্পষ্ট দেখা গেছে।
অভিনেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লিটন এরশাদ জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বাধুনিক চিকিৎসা চললেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শারীরিক উন্নতি দেখা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলেও চিকিৎসকদের আস্থার জায়গাটিতে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘকাল দেশ ও প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকায় কাঞ্চন নিজেও দেশে ফেরার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে কিছুদিনের জন্য দেশে আনা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আশির ও নব্বইয়ের দশকের বাংলা সিনেমার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় এই অভিনেতা উপহার দিয়েছেন ‘বেদের মেয়ে জোছনা’-র মতো রেকর্ড সৃষ্টিকারী ব্যবসাসফল সিনেমা। চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন।