
আমেরিকা সফর শেষে দেশে ফেরার পথে লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি আইরাওয়ালার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে লিসড ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৪-২ গোলের সেই হার। শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধে লিভারপুল দারুণ ফুটবল উপহার দিলেও, দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে চার গোল হজম করে বসে। কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির প্রথমার্ধের খেলা যেমন সেরাগুলোর একটি ছিল, তেমনি দ্বিতীয়ার্ধের এই ভরাডুবি ছিল অন্যতম বাজে অভিজ্ঞতা।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন আনলেও ড্যানিয়েল ফার্কের লিসডের বিপক্ষে লিভারপুলের রক্ষণভাগের এই বিপর্যয় এড়ানো যায়নি। তরুণ ও অনভিজ্ঞ রক্ষণভাগ নিয়ে খেলতে নামা দলটির শারীরিক সক্ষমতা এবং স্কোয়াডের গভীরতার ঘাটতি এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সেট-পিসের সময় দলের রক্ষণাত্মক দুর্বলতাগুলো কোচের দৃষ্টি এড়ায়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পরাজয় থেকে পাওয়া শিক্ষা দলকে সঠিক পথে চালাতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন আইরাওয়ালা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আলেকজান্ডার ইসাক এবং ফ্লোরিয়ান উইর্টজ দারুণ ফর্মে ছিলেন। গত মৌসুমে সাত গোল করা উইর্টজ এবং ইসাকের আক্রমণাত্মক প্রেসিংয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল লিসড। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে লুক চেম্বারস লিভারপুলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৪০তম মিনিটে তরুন মিডফিল্ডার ট্রে নিওনির চমৎকার পাস থেকে জেরেমি ফ্রিমপং হয়ে বল পান উইর্টজ, এবং নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই জার্মান তারকা। দলের তরুণ ফুটবলার রিও এনগুমোহা এবং ট্রে নিওনি পুরো প্রি-সিজন জুড়েই নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ম্যাচ শেষে কোচ আইরাওয়ালা জানান, এই ধরনের কঠিন অভিজ্ঞতা দলের ভেতরের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং দলবদলের বাজারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বড় ভূমিকা রাখবে। আগামী দিনে ভার্জিল ফন ডাইক, কোডি গ্যাকপো, অ্যালিসন বেকার এবং নতুন স্প্যানিশ সাইনিং ভিক্টর মুনোজের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি। কোপা আমেরিকা ফাইনালের কারণে বাড়তি ছুটি কাটানো অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বাদে বাকি সবাই এখন দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আমেরিকা সফরে কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো না হলেও, এই প্রীতি ম্যাচের পর দল পুনর্গঠনে আরও মনোযোগী হবেন আইরাওয়ালা।