
গত ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের অংশ থাকলেও মাঠে সেভাবে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করার সুযোগ পাননি তরুণ তুর্কি ভালেন্তিন বার্কো। তবে তার ফুটবল প্রতিভার ওপর আস্থা রেখে তাকে নিজেদের ডেরায় ভিড়াতে ভুল করেনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম জায়ান্ট ক্লাব চেলসি। ফরাসি ক্লাব আরসি স্ট্রাসবুর থেকে দীর্ঘ সাত বছরের চুক্তিতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পা রাখলেন এই বহুমুখী প্রতিভাবান আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়। যদিও এই দলবদলের গুঞ্জন প্রথম দিকে এপ্রিল মাসে ডালপালা মেললেও, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে প্রায় চার মাস সময় লেগে গেল।
বোকাজুনিয়র্স থেকে ইউরোপিয়ান ফুটবলে পা রাখা বার্কোর ফুটবল ক্যারিয়ার বেশ গতিশীল। ২০২৩ সালে ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন প্রায় এক কোটি ইউরো খরচ করে তাকে দলে টানে। এরপর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে প্রথমে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ায় এবং পরবর্তীতে ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবুরে ধারে পাঠানো হয়। স্ট্রাসবুরের জার্সিতে গত দেড় বছরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ক্লাবটির মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন বার্কো। এই দুর্দান্ত ফর্মের সুবাদেই তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতেও পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান এবং কাতার ও পরবর্তী বৈশ্বিক আসরের স্কোয়াডে নিজের জায়গা ধরে রাখেন। অবশ্য বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত উদযাপনের জেরে ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহামের হালকা চড়ের শিকার হয়ে বেশ ভালোই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি।
মূলত মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও মাঠের বাঁ প্রান্তে বার্কোর জুড়ি মেলা ভার। লেফট ব্যাক থেকে শুরু করে লেফট উইঙ্গার বিভিন্ন পজিশনে সমান তালে লড়াই করার বিরল দক্ষতা রয়েছে তার। মাঠের বহুমুখী এই ব্যবহারযোগ্যতা চেলসির কোচিং প্যানেলের জন্য বাড়তি সুবিধা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে চেলসিতে দলের আরেক আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফের্নান্দেজের ভবিষ্যৎ ও ভূমিকা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও, বার্কোর অন্তর্ভুক্তি যে ব্লুজদের স্কোয়াডের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।