
উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়া পাড়ি দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং ইউক্রেনীয় কারাগারে যুদ্ধবন্দী (POW) হিসেবে আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১০৪ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে রুশ সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা গাইবান্ধার রিমেল, ময়মনসিংহের সারওয়ার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুলের মতো যুবকদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, পাচারকারীরা অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ যুবকদের ফাঁদে ফেলছে। কেউ ভালো বেতনের চাকরির আশায়, আবার কেউ ইউরোপ যাওয়ার লোভের বশে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় গিয়ে বিপদে পড়েছেন। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ভাষা না বুঝে রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিতে সই করার ফলে তাদের জোরপূর্বক যুদ্ধের মাঠে বা বিপজ্জনক স্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার কাজ হারিয়ে কিংবা আইনি জটিলতা এড়াতে বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অথচ যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী বা বিপন্ন এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে বা তাদের উদ্ধারে এতদিন সরকারিভাবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি, যা দেশজুড়ে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদন জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, কেবল কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা বজায় রাখলে চলবে না; সরকারকে অবিলম্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে, এই অবৈধ মানবপাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। দেশের যুবসমাজ যাতে বেকারত্ব ও হতাশার কারণে এমন বিপজ্জনক ফাঁদে পা না দেয়, সেজন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো অপরিহার্য।