
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সম্প্রতি প্রকাশিত এক ফেডারেল নোটিশ অনুযায়ী, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য ইস্যুকৃত বি১ এবং বি২ ভিসার ক্ষেত্রে এই ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করা হয়েছে। এর আওতায় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রভেদে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত ওই নোটিশে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা নির্ধারিত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন। এর আগে পরিচালিত ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন শেষে মার্কিন প্রশাসন এটিকে কার্যকর প্রমাণিত করায় এই স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বের পাইলট প্রকল্পে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের নিয়ম থাকলেও নতুন চূড়ান্ত বিধমালায় ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
জানা গেছে, যে ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই স্থায়ী নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে নেপাল ও ভুটান। এই দেশগুলোর যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসা আবেদন করবেন, তাদের এখন থেকে এই স্থায়ী নিয়ম মেনে বন্ড পোস্ট করতে হবে। ফলস্বরূপ, নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, কর্মী এবং ভ্রমণপিপাসু পরিবারগুলো এর মাধ্যমে নতুন নিয়মের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মূলত ভিসা ওভারস্টে বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থান করার প্রবণতা কমাটোর লক্ষ্যেই এই কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে তালিকাভুক্ত এই ৫০টি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পঁয়তাল্লিশ হাজার পরিদর্শক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। তবে পাইলট প্রকল্পের প্রথম ১০ মাসে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আইনজীবী ও সংগঠনের মতে, এই ধরনের কঠোর আর্থিক শর্ত আরোপের ফলে বৈধ ও সাধারণ যাত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা থেকে নিরুৎসাহিত হবেন। আগামী ৩ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর থেকেই এই চূড়ান্ত নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।